মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী

                                                                             

 

ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী

 

ব্যক্তিগত পরিচয়

বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা            : ১৭৯/২, আলী আহাম্মদ চুনকা সড়ক, পশ্চিম দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ।

জাতীয় পরিচয় পত্র নং             : ৬৭২৫৮০৭০১৩১০৩

জন্ম তারিখ                          : ০৫ জুন ১৯৬৬

ধর্ম                                    : ইসলাম (সুন্নী)

জাতীয়তা                            : বাংলাদেশী

বৈবাহিক অবস্থা                     : বিবাহিত

স্বামীর নাম                          : কাজী আহসান হায়াত

সন্তান                                 : ২ ছেলে ,   (১) কাজী সাদমান হায়াত সীমান্ত

                                                       (২) কাজী সারজিল হায়াত অনন্ত

 

শিক্ষা জীবন

প্রাথমিক                          :  দেওভোগ আখড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুল (৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত)

মাধ্যমিক                         :  মর্গ্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৭৯ সালে ট্যালেন্টপুলে জুনিয়র স্কলারশিপ অর্জন এবং ১৯৮২     

                                       সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় স্টার মার্কসহ উত্তীর্ণ।

উচ্চ মাধ্যমিক                   :  নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ হতে ১৯৮৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।

উচ্চতর শিক্ষা                   :  ১৯৮৫ সালে রাশিয়ান সরকারের স্কলারশীপ অর্জন এবং ওডেসা পিরাগোব মেডিক্যাল ইনষ্টিটিউট,  

                                      রাশিয়া হতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ১৯৯২ সালে কৃতিত্বের সাথে Doctor of Medicine (MD) ডিগ্রী   

                                      লাভ। ১৯৯২-৯৩ সালে ঢাকা মিডফোর্ট হাসপাতালে ইন্টার্নী সম্পন্ন।

পেশা                             :  চিকিৎসক

 

রাজনৈতিক পরিচয়

১৯৮৪ সালে নারায়ণগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির সদস্য।

১৯৯৩ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদিকা ।

২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান।

২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র।

২০১৬, ১০ অক্টোবর তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব প্রাপ্তি।

 

সামাজিক পরিচয়

 

সভাপতি-আলী আহাম্মদ চুনকা ফাউন্ডেশন, ১৭৯/২, আলী আহাম্মদ চুনকা সড়ক, পশ্চিম দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ।

সভাপতি- নারায়ণগঞ্জ হার্ট ফাউন্ডেশন, ৬১/৫, বঙ্গবন্ধু সড়ক, মন্ডলপাড়া, নারায়ণগঞ্জ।

আহ্বায়ক- স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা (২০০৩-২০১৫ সাল)।

সহ-সভাপতি- মিউনিসিপাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব), (২০০৪-২০১১ সাল)।

এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।  

 

বিদেশ ভ্রমন

 

রাশিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, জার্মান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইতালী, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল, স্পেন ও সুইডেন ।

 

 

পারিবারিক পরিচয়

পিতা আলী আহাম্মদ চুনকা স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তিনি আওয়ামী লীগের ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হন। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন এবং পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আইয়ুব বিরোধী গণআন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের ছাত্র-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক-জনতাকে সংগঠিত করে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে অভ্যুথ্থানে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসেবে সক্রীয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ( মুক্তিযুদ্ধ ক্রমিক নং- ১১৩৮, পৃষ্ঠা নং- ৪৯৯৫, বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত, ২৯ শে মে ২০০৫ খ্রি.)।

 

মুক্তিযুদ্ধের সূচনাতে ২৬ র্মাচ তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা নারায়ণগঞ্জে অস্ত্রাগার অস্ত্রাগার লুন্ঠন। যা দিয়ে পরবর্তীতে পাকসেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পতিরোধ গড়ে তোলে। পরবর্তীতে তিনি ভারতরে আগরতলার রাজবাড়িতে অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি আগরতলা ও মেঘালয়ের ক্যাম্পের মুক্তযিোদ্ধাদরে এবং স্বরর্নাথীদরে খাবার-দাবার, চিকিৎসা ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব পালন করতেন। আলী আহাম্মদ চুনকা ১৯৬২ সালে দেওভোগ ইউনিয়ন থেকে বীণা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিডি মেম্বার নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত পৌরসভার নির্বাচনে বিপুল ভোটে নিবাচিত হয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রকৃতপক্ষে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তাঁর প্রথম ও প্রধান কাজই ছিল শহররে অবকাঠামো উন্নয়ণ ও উন্নত নাগরিক সেবার মান যথেষ্টভাবে বৃদ্ধি করা। যার ফলে ১৯৭৭ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে তিনি পূনরায় বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। মৃত্যুর পূর্ব র্পযন্ত তিনি একাধারে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতির দাযিত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননত্রেী শেখ হাসিনাকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া বালুর মাঠে প্রথম গণসংর্বধনা প্রদান করেন এবং “নগরের চাবী” তাঁর হাতে তুলে দেন। তিনি দলের দূঃসময়ে সংগঠক হিসাবে এবং তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন।

 

দেওভোগ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তার প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু। শৈশব থেকেই অবহেলিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি ছিল তাঁর অগাধ মমতা ও ভালবাসা। জীবনের বিভিন্ন পর্বে এই জনগোষ্ঠীর প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের প্রতিফলন ঘটেছে। মুটে-মজুর, হরিজন ও নিন্ম বর্ণিও জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি একদিকে রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও অন্যদিকে সমাজের নিন্মস্তরের অবহেলিত বৃহত্তর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে সমভাবে সর্ম্পক গড়ে তুলেছেন।

 

১৯৫৬ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর ও এর আশেপাশে ভয়াবহ মহামারি দেখাদেয়। বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষের মৃত্যু হয় আত্মীয় পরিজন ফেলে জীবন বাঁচাতে যখন মানুষ এদিক-সেদিক পালাতে থাকে তখন তিনি সহকর্মীদের নিয়ে দল গঠন করে আর্তের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের চিকিৎসা সেবা ও মৃতদের দাফন-কাফনে তাদের পাশে দাঁড়ান। মহামারীর পুরো সময় তিনি এই আর্তের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় সাহসিকতার সাথে তিনি বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান। ১৯৬৯ সালে নারায়ণগঞ্জের ডেমরার টর্নেডো, ১৯৭০ সালে দক্ষিণবঙ্গে জলোচ্ছ্বাস এবং ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় দুর্গতদের রক্ষার জন্য তাঁর ভূমিকা নারায়ণগঞ্জবাসী শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। আর এসবের জন্যই তিনি জনগণের “চুনকা ভাই” হিসাবে সারাদেশে পরিচিত হয়ে ওঠেন। জনহিতৈষী, পরোপকারী অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী বৈশিষ্টের কারনে তিনি সমগ্র নারায়ণগঞ্জের মানুষের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।

 

শিক্ষা - সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ‘শিশুবাগ বিদ্যালয়’ ও ‘কলরব’ নামে দুইটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শহরের নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল, গণবিদ্যা নিকেতন, তোলারাম কলেজ ও মহিলা কলেজ পরিচালনার সাথে যুক্ত থাকে প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। নারায়ণগঞ্জের   অসংখ্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত থাকে সংস্কৃতির মান উন্নয়নে ও বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি প্রায় শতাধিক সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ক্লাব সমিতি ও ক্রীড়া সংগঠনরে সাথে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় সাংবাদিকতায় তার অবদান স্মরনীয়। তিনি সুষ্ঠসাংবাদিকতার সুবিধার্থে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের জায়গা বরাদ্দ দেন। নারায়ণগঞ্জে বই পড়ায় উৎসাহ দেয়ার সুধীজন পাঠাগারের ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেন। 

 

তিনি নারায়গঞ্জে স্কাউট আন্দোলনকে সম্প্রসারিত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। কাবাডি, ফুটবল ও ক্রিকেট সহ বিভিন্ন খেলাধুলায় তার সবিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে পরিচিত ছিলেন। বৃহত্তর ঢাকা জেলায় তিনি কাবাডি খেলোয়াড় হিসাবে বহু পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রায় ৭৬টি সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন।

 

মাতা :  মমতাজ বেগম (গৃহিনী)

ভাই  : ২ জন ,   (১) আলী রেজা রিপন, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।

                     (২) আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর।

বোন : ২ জন ,   (১) মিনু বেগম (গৃহিনী)

                     (২) লাকি ফারহানা (নিউজিল্যান্ড প্রবাসী)


Share with :

Facebook Facebook